শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফার বিধান অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকারই এই দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই তিনি পদ ছাড়লেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তার মেয়াদেই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ করে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই সময়ের মধ্যে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর ঘটনাও তার দায়িত্বকালকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।