ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি জয়নাল আবেদিন জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও স্টেশনের কাছে আউট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খালি কোচে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা আগুন দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়, কোনো হতাহতের খবর নেই।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বগিতে আগুনের লেলিহান শিখা উঠছে।
এর আগে ভোরে গাজীপুরে পৃথক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। একইভাবে সাভারের আশুলিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় আরেকটি বাসে।
মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলে সকালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
দুপুরে মিরপুরের সনি সিনেমার সামনে শতাব্দী পরিবহন নামে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে কাকরাইলে রমনা থানার সামনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান এবং উত্তরায় একটি মাইক্রোবাস আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এ দুটি ঘটনা যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্ধ্যার পর দোলাইরপাড়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
রাত গড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ গত সপ্তাহে ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই রাজধানী ও আশপাশে ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
সোমবার ঢাকায় অন্তত সাতটি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরদিন গভীর রাতে রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এছাড়া মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বাসচালক দগ্ধ হয়ে নিহত হন।