শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ও নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভঙ্গুর অবস্থায় পেয়েছিল। গত ছয় মাসে বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মপ্রেরণা বাড়াতে কাজ করা হয়েছে।
নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন প্রতিষ্ঠা করা তারও প্রত্যাশা। তিনি বলেন, সরকারে থাকা বা না থাকার বিষয়টি স্থায়ী নয়, কিন্তু এমন একটি আইন প্রয়োজন, যাতে গুমের শিকার প্রত্যেক ব্যক্তি ন্যায়বিচার পান।
র্যাবের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করার জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে এবং শিগগিরই তা সামনে আসবে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাইবার ইন্টেলিজেন্স, তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের বাস্তবতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা যাতে দ্রুত ও যথাযথ বিচার পান, এমন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
সূত্র: বাসস