বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি ও গুইমারার ঘটনাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, ইউপিডিএফ (মূল) ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিগত কয়েক বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বারবার সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনার বার্ষিকী উপলক্ষে তারা এ বছরও বিক্ষোভ, অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে এক ধর্ষণ মামলার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা তৈরি করা হয়। পরে অবরোধ চলাকালে সেনাদলের ওপর হামলা চালিয়ে তিন সেনাসদস্যকে আহত করা হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পৌর এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর, গুলি ও দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। সাধারণ মানুষ ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপরও হামলা হয়। এ অবস্থায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে, আর সেনাবাহিনী ও বিজিবি রাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সেনাবাহিনীর তিন কর্মকর্তা ও সাত সদস্য আহত হন। পাশাপাশি বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সেনাবাহিনী দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে বিকেলের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউপিডিএফ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং নারী ও শিশুদের নাশকতায় সম্পৃক্ত করছে। সম্প্রতি চেকপোস্টে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই সব জাতিগোষ্ঠীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী আশ্বস্ত করেছে—পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।