জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের মধ্যে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি।’
অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এর অনেকগুলো থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত হয় না। আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি ও এক বিচারককে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিচারকদের অভিযোগ, গত নভেম্বরে আদালত এলাকায় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়ে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৪ মে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে গত ২৪ মার্চ সমুদ্রসৈকতে ছুরিকাঘাতে নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যা মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এক সন্দেহভাজনকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে পুলিশের ওপর অনাস্থা জানিয়ে মামলাটি আদালতের মাধ্যমে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।
জেলার কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ, দুর্বল পুলিশিং, কিছু সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
সাজেদুর রহমান বলেন, সারা দেশেই হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং কক্সবাজারেও অধিকাংশ হত্যার পেছনে পারিবারিক ও পরকীয়াজনিত কারণ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্য অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সূত্র: যুগান্তর