পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর স্বাক্ষরে একটি জরুরি স্মারক জারি করা হয়। স্মারকে পুলিশ সদরদপ্তর ও ডিআইজি কার্যালয়ের বিভিন্ন স্মারকের মাধ্যমে বদলিকৃত কনস্টেবল, নায়েক, এটিএসআই, এসআই, সার্জেন্ট ও টিএসআইদের ২৭ আগস্টের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এর আগেও প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়া কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল ছাড়েননি। তাদের মধ্যে এসআই নাজিম উদ্দীনের নামও রয়েছে। প্রশাসনিক কারণে গত ৭ মে ২০২৬ তাকে বদলি করা হলেও দীর্ঘ সময় পরও তিনি কর্মস্থল থেকে প্রস্থান নেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
বদলি আদেশের পরও কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য কীভাবে দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে বহাল থাকছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন বলেন, বদলি আদেশের পরও কেউ দায়িত্বে থেকে গেলে তার পেছনে প্রশাসনিক অনুমোদন বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, পুলিশের অভ্যন্তরে লিয়াজোঁর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বদলি ঠেকিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করলে সেখানে প্রশাসনিক গাফিলতি কিংবা যোগসাজশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের বিষয় কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বদলি আদেশ কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থানকারী সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই বদলি আদেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অতীতে বদলি হয়েও যারা কর্মস্থল ছাড়েননি, তাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।