বিবৃতিতে তিনি বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও সংযমের শিক্ষা নিয়ে ঈদুল ফিতর উপস্থিত হয়েছে সবার দুয়ারে। এমন সময়ে জাতি ঈদ উদযাপন করছে, যখন দেশে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা—ভয়হীন পরিবেশে চলাফেরা ও মতপ্রকাশের নিশ্চয়তা থাকবে, বৈষম্য কমবে, নাগরিকের জানমাল ও সম্মানের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত একটি দেশ গড়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতিতে বসবাসের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং গণভোটে বিপুল সমর্থন জনগণের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেছে। তবে এ সনদ কার্যকরে ধীরগতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করেন তিনি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, তাকওয়া ও আত্মসংযমের চর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয় রমজান। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদুল ফিতর মুসলিম সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয় এ উৎসবকে ঘিরে।
তিনি আহ্বান জানান, ঈদের দিনে বিভেদ ভুলে পারস্পরিক দয়া, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে। সহিংসতা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপরও জোর দেন। একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত বলেও উল্লেখ করেন।
বিবৃতির শেষে তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন এবং সবাইকে আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছা জানান।