সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয়েছে—সংঘাত থামানোর প্রচেষ্টা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প কৌতুকের সুরে বলেন, পরিস্থিতি এমন যেন কোনো চিকিৎসক এসে বলছেন—“আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর অবস্থাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আবারও সামরিক এসকর্ট চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
গত ৬ মে ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আঞ্চলিক মিত্রদের আপত্তি ও কূটনৈতিক চাপের মুখে দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে সেই অভিযান স্থগিত করতে হয় ওয়াশিংটনকে।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার শর্তে উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তেহরানের পাল্টা শর্তগুলোকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে “আবর্জনা” আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে পিছু হটানো যাবে এমন ধারণা ভুল।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো “পূর্ণ বিজয়” অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের ভেতরে নরমপন্থী ও চরমপন্থী—দুই ধরনের শক্তি সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সরাসরি সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির কারণে তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না।