মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইরানি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে রাখার কোনো চুক্তি তারা মেনে নেবে না। যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করাই তাদের লক্ষ্য।
আরাগচি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা যৌথ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থার সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ও যুক্ত থাকা উচিত।
মধ্যস্থতায় কাতার ও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভালো পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানি শিক্ষাবিদদের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি দাবি করেন, যুদ্ধ ও কূটনীতি দুই ক্ষেত্রেই ইরান জয়ী হয়েছে। তার দাবি, যারা শুরুতে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করেছিল, যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পর তারাই তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পাওয়া প্রতিপক্ষও ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেনি। তিনি বলেন, ইরান শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করেছে এবং সেই শক্তির অবস্থান থেকেই আলোচনা করেছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইলেও ওয়াশিংটন যে ধরনের চুক্তি প্রয়োজন মনে করে, তেহরান তাতে রাজি নয়। ট্রাম্প ইরানকে ‘সাদা পতাকা’ তুলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
তবে তেহরান জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা ছাড়া তারা আর কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় যাবে না।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখতে নিষেধ করেছেন আরাগচি। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। চলমান সংঘাত বন্ধ করে বৃহত্তর একটি চুক্তির পথ তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। ওই সমঝোতার অধীনে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা সোমবার কোনো স্থায়ী সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দুই দেশই এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করেছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ অভিযোগ করেছেন, জুনের সমঝোতায় যতটা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তার চেয়েও বেশি আদায়ের চেষ্টা করছে। তার দাবি, ওয়াশিংটন মনে করছে চাপ বাড়ালে তেহরান আরও ছাড় দিতে বাধ্য হবে। তবে সমঝোতায় নেই এমন কোনো বিষয়ে ইরান রাজি হবে না।
স্থায়ী সমঝোতার আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে ইরানের সামরিক অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে তেহরান ‘সময়োপযোগী ও সুনির্দিষ্ট’ হামলার পথে যেতে পারে।