সরকার গত ৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউবসহ মোট ২৬টি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেয়। সরকারের যুক্তি— এসব প্ল্যাটফর্ম নতুন নিবন্ধন নীতিমালা মানেনি। তবে সাধারণ মানুষের মতে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করে “দুর্নীতি বন্ধ করো, স্বাধীনতা ফেরাও” স্লোগান তোলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারগ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট এমনকি কোথাও কোথাও গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এপি নিউজ জানায়, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে মৃতের সংখ্যা ৯ থেকে ১৪ জনের মধ্যে হতে পারে। আহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জারি করা হয়েছে কারফিউ, মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
এদিকে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা অভিযোগ করেছেন, সরকার দুর্নীতি আড়াল করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই আন্দোলন নেপালের তরুণ সমাজে এক প্রজন্মগত জাগরণ তৈরি করেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সোর্স: এএফপি