বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
নিজের পূর্বসূরি আনালেনা বায়েরবকের প্রশংসা করে খলিলুর রহমান বলেন, কঠিন সময়ে সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
জাতিসংঘের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আট দশকের বেশি সময়ে সংস্থাটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও কাজ করছে জাতিসংঘ।
তবে বিভিন্ন সংঘাত, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই আস্থা পুনরুদ্ধারে সংলাপ, সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।
এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য, ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর এক জাতিসংঘ।’
আগামী এক বছরের দায়িত্ব পালনে ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন খলিলুর রহমান। এগুলো হলো—শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু ও পরিবেশ, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।
মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কথাও উল্লেখ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, জাতিসংঘের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
খলিলুর রহমান জানান, তার দপ্তরে বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দপ্তরের সদস্যদের ৬০ শতাংশ নারী।
বক্তব্যের শেষ দিকে বিশ্বের মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।