পুলিশ সূত্র বলছে, শুধু পুরনো শীর্ষ সন্ত্রাসী নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন অপরাধী চক্রও দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। থানাভিত্তিক সোর্সের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক তথ্য ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এনআইডি ব্লক করা গেলে অপরাধীদের আর্থিক ও সামাজিক কার্যক্রম অনেকটাই অচল হয়ে পড়বে। তারা ব্যাংক হিসাব চালাতে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করতে, নতুন সিম তুলতে, পাসপোর্ট নবায়ন করতে কিংবা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করতে পারবে না। ফলে বিদেশে বসে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা দেশে অর্থ লেনদেন পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে যাবে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকার বিভিন্ন বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে ভাসমান অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সদরঘাট, কমলাপুর ও তেজগাঁওসহ কয়েকটি এলাকায় ছিনতাই, অস্ত্র বাণিজ্য, মাদক ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঢাকার বাইরে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলাতেও একই ধরনের অপরাধ নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে আলাদা একটি কমিটি ‘রাঘববোয়াল’দের তালিকা প্রস্তুত করছে। এতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী, অর্থ পাচারকারী, মানবপাচার চক্রের হোতা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী কয়েকজনও এই নজরদারির আওতায় এসেছে।
পরিকল্পনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ হচ্ছে স্বজনদের তথ্য যাচাই। গোয়েন্দাদের দাবি, অনেক শীর্ষ অপরাধী নিজেদের নামে সম্পদ না রেখে স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়স্বজনের এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি পরিচালনা করছে। এজন্য অপরাধের আর্থিক সুবিধাভোগীদেরও আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো কার্যক্রমটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালনার চিন্তা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট, পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও বিটিআরসির তথ্যভান্ডার সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে তিন স্তরের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যাতে নিরপরাধ কেউ ভোগান্তিতে না পড়েন।
সূত্র: দেশ রুপান্তর