মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জুলাই সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও কিছু বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিএনপির সম্মতি ছাড়া কিছু বিষয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংবিধান নিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের দল বরাবরই সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের পক্ষে কথা বলেছে, তবে সংবিধান পুনর্লিখন বা মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে নয়। তিনি দাবি করেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালুর ক্ষেত্রে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিএনপি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি মাস বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।