রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট সম্পন্ন হয়েছে এবং তা বৈধ। ভবিষ্যতে নতুন করে গণভোট আয়োজন করতে হলে সংবিধান অনুযায়ী বা প্রয়োজন হলে আলাদা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে যে গণভোটের বিধান রয়েছে, সাম্প্রতিক গণভোট তার আওতায় হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে পরবর্তীতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে এসব পদক্ষেপও বৈধতা পাবে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের বৈধতা নিয়ে হুমকি বা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। সংসদের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ কর্মকাণ্ড বৈধতা পেলে বিষয়টি পুরোপুরি স্বীকৃতি পাবে।
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাট থেকেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। একাধিক সংশোধনীসহ একই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপন করায় সংখ্যাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য উপস্থাপনে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে, যা সংসদীয় চর্চায় বিরল।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত বিল নিয়েও আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সংশোধন এনে এটি আরও গ্রহণযোগ্য করা হবে। এছাড়া গুম, মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত কিছু অধ্যাদেশ আরও পর্যালোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ পর্যালোচনা নিয়ে তিনি জানান, ১৩৩টির মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ১৬টি যাচাই-বাছাই শেষে বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, বাতিল বা সংরক্ষণের সুপারিশও রয়েছে।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই এতগুলো অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করতে হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৯ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা নিরলস পরিশ্রম করে কাজ সম্পন্ন করেছেন।