মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন মিললে ১৫০ থেকে ২০০ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশে কাজ করবে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পর্যবেক্ষক নির্বাচন শুরুর ছয় সপ্তাহ আগে ঢাকায় পৌঁছাবেন, আর মূল দল ভোটের প্রায় এক সপ্তাহ আগে যোগ দেবেন। পাশাপাশি, দেশীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগেও সহযোগিতা করবে ইইউ।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের প্রস্তুতি, শাসন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার, শ্রমনীতি, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত মিলার জুলাইয়ে ঘোষিত জাতীয় সনদ (National Charter)–কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারযাত্রার “গুরুত্বপূর্ণ দলিল” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংশোধন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করার উদ্যোগগুলোকেও প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক হবে। ইইউ আশা করছে, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় পূর্ণ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”
বৈঠকে উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সম্ভাবনা, বিমান ও নৌপরিবহন খাতে নতুন সহযোগিতা, এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, চট্টগ্রামের লালদিয়া টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য বিশ্বখ্যাত ড্যানিশ কোম্পানি এ.পি. মোলার–ম্যার্সক–এর সঙ্গে একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, কোম্পানিটি প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে লালদিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বৈঠকের শেষাংশে উভয়পক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং মানবাধিকার নিশ্চিতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।