১৫ আগস্টের ঘটনার পর ধারাবাহিক সেনা অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান ও অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন দেশে তখন নেমে এসেছিল গভীর নৈরাজ্য। ঠিক সেই সময় সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিপ্লব জাতিকে মুক্তি দেয় অচলাবস্থা থেকে এবং ফিরিয়ে আনে স্থিতি ও আত্মবিশ্বাস।
এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই মুক্তি পান স্বাধীনতার ঘোষক ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয় প্রশাসন, জোরদার হয় জাতীয় সংহতি এবং সূচনা ঘটে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার।
বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে। বিএনপি শাসনামলে দিনটি ছিল সরকারি ছুটি; তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা বাতিল করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং জাতির মানসিক পুনর্জাগরণের প্রতীক। এই দিন থেকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নতুন ভিত্তিতে দৃঢ় হয়, আর জনগণ ফিরে পায় আস্থা ও আশা।
সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান তার আত্মজীবনী ‘কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ বইয়ে লেখেন— “৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক ও জনতার এক অভূতপূর্ব উত্থান। জেনারেল জিয়া সেই উত্তাল ঢেউয়ের ওপর ভর করে জাতীয় নেতৃত্বে আসীন হন।”
তৎকালীন দৈনিক বাংলা–র প্রতিবেদনে বলা হয়, “সিপাহি-জনতার ঐক্যে চার দিনের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটে, মুক্তি পান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।” সেদিন ভোরে রেডিওতে প্রতিধ্বনিত হয় ইতিহাসের সেই বিখ্যাত ঘোষণা— “আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।”
ঢাকা শহর সেদিন পরিণত হয়েছিল উচ্ছ্বাসের নগরীতে— পথে পথে মিছিল, সৈনিক-জনতার আলিঙ্গন, ট্যাঙ্কের নলে ফুলের মালা, আর মুখে একটাই স্লোগান— ঐক্য, সংহতি ও স্বাধীনতার চেতনা! এই আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি শহর, উপজেলা ও গ্রাম পর্যন্ত।