দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই উদ্দেশ্যে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ও বিগত ১৬ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো এই তদন্তের আওতায় আনা হবে। দলীয়ভাবে এসব অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করবে ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ তৃতীয় দিনের মতো শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে জেরা করছেন শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীরা।
এর আগে সোমবারও তাকে দিনভর জেরা করা হয়। জেরার সময় রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে চাপের মুখে রাজসাক্ষী করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “কোনো প্রকার চাপ নয়, বরং সত্য উদঘাটনের স্বার্থেই তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন।”
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জুলাই মাসে সরকারদলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। শেখ হাসিনার মামলায় এ পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবসে মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ৫৪তম সাক্ষীর জেরা শেষে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্ব শুরু হবে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, “জুলাই গণহত্যায় জড়িত কেউই বিচার এড়াতে পারবে না।”