মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘ডার্ক ঈগল’ নামের গোপন অস্ত্রটি ওই অঞ্চলে মোতায়েনের অনুমতি চেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ইরানের গভীর অভ্যন্তরের স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো এমন দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অস্ত্রের নাগালের বাইরে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নতুন প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তা সামনে এসেছে।
অনুমোদন মিললে ‘ডার্ক ঈগল’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাধীন এই অস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২,৭৭৬ কিলোমিটারের বেশি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নিয়মিত ব্রিফ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সম্ভাব্য হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হাইপারসনিক প্রযুক্তি মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা অপেক্ষাকৃত সীমিত।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ এখনও সক্রিয় রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা আকাশে নিজেদের প্রাধান্য নিশ্চিত করেছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশই নৌপথে কৌশলগত চাপ বাড়াচ্ছে এবং সামরিক অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। এতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে এবং অস্ত্রের মজুতেও চাপ সৃষ্টি করছে। অপরদিকে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও অচল থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।
সূত্র: মিডলইস্ট আই