স্যাটেলাইট বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সোয়ার জানায়, ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ চলাকালে একাধিক ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগে। এই হামলাকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত ছবিতে রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটির দুটি আলাদা অংশে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। একটি অংশে সামরিক যান ও সরঞ্জাম রাখা হতো, অন্য অংশটি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া সাফেদ অঞ্চলের ইউনিট ৮২০০ গোয়েন্দা ঘাঁটি ‘মিশার বেস’-এও হামলার আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্চের ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে সেখানে আঘাত হানার ঘটনা ঘটে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
নেভাটিম বিমানঘাঁটির একটি স্থাপনাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়ে। মার্চের ২৫ তারিখের স্যাটেলাইট ছবিতে সেটি স্পষ্ট দেখা যায়। অন্যদিকে ক্যাম্প শিমশোন এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। হিজবুল্লাহ যেদিন ড্রোন হামলার দাবি করে, একই দিনে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানানো হয়। কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় ঘাঁটির বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায় বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু স্যাটেলাইট ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের করে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা স্পষ্টভাবে বোঝা না যায়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায়।
যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।