বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষী, মাহবুবুল আলম হাওলাদার, মাহতাব উদ্দিন ও আলতাফ হাওলাদার এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তারা দাবি করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের দিয়ে পূর্বনির্ধারিত জবানবন্দি আদায় করা হয়।
অভিযোগ দায়েরের পর আলতাফ হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে আমরা দেশের সামনে সত্য বলতে চাই। সাঈদী সাহেব একজন আলেম ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে আমাদের যা করানো হয়েছিল, তা আজীবন আমাদের কষ্ট দিচ্ছে।”
আইনজীবী পারভেজ হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালে পিরোজপুর-১ আসনের তৎকালীন এমপি একেএম আউয়াল মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। রাজি না হওয়ায় তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন একটি 'সেফ হোমে' আটক রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগকারীরা জানান, বাকি দুই সাক্ষীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্যাতন ও জবানবন্দি আদায় করা হয়।
অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এটিএম ফজলে কবির এবং সাবেক এমপি একেএম আউয়ালসহ মোট ৪০ জনের নাম রয়েছে।
এর আগে গত ২১ আগস্ট সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসা সুখরঞ্জন বালি একই ধরনের অভিযোগ করে হাসিনাসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেছিলেন। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ২০২৩ সালে কারা হেফাজতে মারা যান।