সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল—স্বতন্ত্র বেতন স্কেল, পদোন্নতির স্পষ্ট নীতিমালা ও শিক্ষা কমিশন গঠন।
সাকি বলেন, “একটি জাতির উন্নয়নের ভিত্তি হলো শিক্ষা। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেই গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির অভাব রয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একীভূত পাঠ্যক্রম চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুরা যখন প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পা রাখে, তখন তারা পৃথিবীকে প্রথমবারের মতো চিনতে শেখে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। তাদের দক্ষতা ও মানবিকতা থাকা আবশ্যক। তবে এটি শুধু ব্যক্তিগত চেষ্টায় সম্ভব নয়, রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে।”
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে সাকি বলেন, “বারবার আমরা বলেছি—গণতান্ত্রিক সরকার হলে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু করা হবে। স্বল্প বেতনে তারা মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করেন, ফলে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে পারেন না। শিক্ষায় বিনিয়োগ না করলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে।”
তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম, একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হবে এবং একটি শক্তিশালী শিক্ষা নীতি প্রণয়ন হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা এখনো হয়নি। তবে বর্তমানে উপদেষ্টা সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা আশা করি, তারা এমন পদক্ষেপ নেবেন, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।”
সমাবেশে তিনি সরকারকে দ্রুত শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ও পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানান।