বিএনপি নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ এই সংকটকে আরও গভীর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের অন্তত ২০টি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যৌথ নদী কমিশনে বারবার চিঠি দিয়েও ভারতের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হওয়ায় ছোট দেশগুলো তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি ভারতের 'স্পার' নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা জানান এবং অভিযোগ করেন যে নতুন বাঁধ দিতে গেলে বিএসএফ বাধা দেয়।
সভার অন্যান্য বক্তারাও নদীর করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ভারত কর্তৃক একতরফা পানি প্রত্যাহার, ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ভাটিতে পানি প্রবাহ কমে যায়, যা কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নদী দূষণ, দখল এবং খাল ভরাটের কারণে দেশের অনেক নদী এখন মৃতপ্রায়।
বক্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে, যার কারণে পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে তিন মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় এটি ৪০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। তারা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা একটি বোর্ড গঠনের ওপর জোর দেন।
জ্বালানি ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বিনি রাহমাতুল্লাহ বলেন, "বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নদী। নদীকে মরতে দিলে রাষ্ট্রও বাঁচবে না।" তিনি নদী রক্ষায় একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণের জরুরি বলে মনে করেন।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নদীকে বাঁচাতে হলে উন্নয়ন দর্শন পরিবর্তন করতে হবে, ক্ষতিকর প্রকল্প বাদ দিতে হবে এবং ঋণদাতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন 'আমাদের সময়' পত্রিকার সম্পাদক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এবং ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।