আজ (২৩ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের কঠোর ভাষায় বলেন, “পাতানো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।” উপজেলা পরিষদ বাতিলের পর থেকে একই দিনে উপজেলা দিবস পালন করছে দলটি। সভায় তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার প্রয়োজনে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
কাদের বলেন, সরকার নিরপেক্ষ নয়; তারা তাদের অনুকূল একটি দলকে সুবিধা দিচ্ছে এবং সেই দলের পরামর্শেই পদক্ষেপ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, “এভাবে একটি পাতানো নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা চলছে” — যা থেকে দেশের মুক্তি পেতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, দেরি করলে ক্ষতি বাড়বে এবং কেউ দেশের ধ্বংসের উদ্যোগ থেকে বাঁচবে না।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে আইনশৃঙ্খলা ভয়াবহভাবে অবনত হয়েছে; চলমান অশান্তি ও হত্যাকাণ্ড প্রতিমাসে বাড়ছে, শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার ধরণের সমস্যা গভীরতর হচ্ছে, বিনিয়োগ ঠেকছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রা চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। টিসিবি লাইনের মতো প্রতীকী দৃশ্য দেখাচ্ছে যে মানুষের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
জিএম কাদের অসজলতার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদ বলে অভিহিত করা হয়েছিল—এ ধরনের নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও গুরুতর মাত্রায় চলছে।” তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে সরাসরি বাদ দেওয়ার প্রয়াসকে সমালোচিত করেন এবং বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত — বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নয় কি অন্য উপায়ে তা হওয়া উচিত সে বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইঙ্গিত দেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদকে স্মরণ করে কাদের বলেন, তিনি ছিলেন দূরদর্শী এবং উপনিবেশী শাসন পদ্ধতি ভেঙে স্থানীয় প্রশাসনিক পরিষদ — উপজেলা — প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষমতা জনগণের নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরে কায়েমি স্বার্থে সেই উপজেলা পরিধি বিলুপ্ত করার কারণে স্থানীয় প্রতিনিধি ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে; আগামীতে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা বাস্তবায়ন দলের অগ্রাধিকার থাকবে, প্রকাশ্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ, যারা কাদেরের বক্তব্যকে সমর্থন করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেছেন।