শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ বলেন,
"নতুন বাংলাদেশের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আগামীকাল শহীদ মিনারে 'জুলাই পদযাত্রা'র সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। একইসাথে আমরা ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ প্রকাশ করবো, যেখানে এনসিপির পক্ষ থেকে রূপরেখা ও কর্মসূচি ঘোষণা থাকবে। সকল নাগরিককে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি জানান, “জুলাই পদযাত্রা ছিল বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে। এর অংশ হিসেবে আমরা জুলাই সনদের প্রস্তাব করেছিলাম। সরকার ৫ আগস্ট যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে, আমরা তা স্বাগত জানাই। তবে আমাদের দাবি—এই ঘোষণার মধ্যে যেন জুলাই সনদের পূর্ণ স্বীকৃতি ও সুরাহা থাকে।”
নাহিদ বলেন, “যদিও কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে এসব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা জানানো হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাস্তবায়ন পদ্ধতি কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে কোনও দিকনির্দেশনা না থাকায় সব দলের স্বাক্ষরও অনিশ্চিত।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন হতে হবে। কেবল নির্বাচিত সংসদের উপর সংস্কারের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। বরং জুলাই সনদের আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকেই নতুন গণপরিষদ বা সংসদ গঠন এবং সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।”
পরীক্ষা ও জনসমাগম ঘিরে সম্ভাব্য যানজট নিয়ে নাহিদ বলেন, “আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে, সেই সঙ্গে একটি ছাত্র সংগঠনের সমাবেশও রয়েছে। শহীদ মিনারে কর্মসূচি থাকলেও, আমাদের অনুরোধে তারা শাহবাগে স্থান পরিবর্তন করেছে। এজন্য আমরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে যানজটের আশঙ্কায় ঢাকাবাসীর কাছে আমরা আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এক বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা পূর্ণতা পায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল এটি বাস্তবায়ন করা। জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে হয়তো তার আংশিক পূর্ণতা আসবে।”