আজ শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “পত্রিকা খুললেই দেখা যায়—জামায়াত অমুক নেতাকে অমুক আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। এভাবে ৩৩ থেকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তারা। অথচ তারা মুখে বলছে নির্বাচন পেছাতে হবে। এটি দ্বিচারিতা নয় তো কী?”
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস দ্বৈতনীতি ও জনবিচ্ছিন্নতার উদাহরণে ভরা। “যুগ যুগ ধরে তারা জনগণের মনোভাব বুঝতে চায়নি। যদি চেত, তাহলে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করত না। ১৯৮৬ সালে আবার শেখ হাসিনার সঙ্গে গিয়ে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী নির্বাচনে অংশ নিত না।”
রিজভী বলেন, “গণতন্ত্রে জনগণের মূল্য আছে, কিন্তু জামায়াত বারবার নিজের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য সেই মূল্যকে অগ্রাহ্য করেছে। আজও তারা নির্বাচনী পরিবেশের অজুহাতে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে—এটিও জনগণের স্পষ্ট রায় না বোঝার আরেকটি দৃষ্টান্ত।”
আলোচনায় তিনি কারবালার প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ ছিল ন্যায় ও অন্যায়ের সংঘর্ষ। একদিকে ছিলেন ইমাম হুসাইন (রা.)—ন্যায়ের প্রতিনিধি, আর অন্যদিকে ইয়াজিদের বাহিনী—অন্যায়ের প্রতীক। “ইমাম হুসাইনের নেতৃত্বে থাকা বাহিনী ছিল গণতন্ত্রের পক্ষে, যারা খলিফা নির্বাচনের মত ঐতিহ্যগতভাবে শুরা (পরামর্শভিত্তিক) ও গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করত। কিন্তু ইয়াজিদের বাহিনী সেই ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচার কায়েম করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা আজ গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি, আমাদের জন্য কারবালার এই ইতিহাস অত্যন্ত শিক্ষণীয়। যারা মানবতার কল্যাণে বিশ্বাস করে, তাদের হৃদয়ে এই ঘটনা আজও কাঁপন তোলে।”
বক্তব্যের শেষদিকে রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেন কোনো ব্যক্তি বা দলকে বিশেষ সুবিধা দিতে নির্বাচন পেছানোর মত সিদ্ধান্ত না নেয়। এটা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”