বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা নীতিগত অঙ্গীকার, দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা জোরদার এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী করা এবং জনসেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যেও যেন কোনোভাবেই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সমর্থন, চাপ এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশের অবদানকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।