শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হয়। পুরো চালান আসতে এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বিকল্প উৎস চালু থাকায় আপাতত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ নেই।
এর আগে একই পাইপলাইন দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে। ২৫ মার্চ প্রথম দফায় ৫ হাজার টন সরবরাহ শুরু হয়। ফলে এই মাধ্যমে আমদানি ধীরে ধীরে বাড়ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘাতের কারণে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে এবং ট্যাংকার সংকট তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় ধরে আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই স্থিতিশীল মাধ্যম হিসেবে পাইপলাইনকে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন দিয়ে ভারতের নুমালিগড় থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেল পৌঁছে যায়। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, অতিরিক্ত আরও ৬০ হাজার টন আনার সুযোগ আছে।
তবে দেশে সংরক্ষণ সুবিধা সীমিত হওয়ায় বড় পরিমাণ একসঙ্গে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই ছোট ছোট চালানে সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে। পাইপলাইনে প্রতি ব্যারেল পরিবহন খরচ প্রায় সাড়ে ৫ ডলার, যা সমুদ্রপথের তুলনায় কম।
বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও
সংরক্ষণ সক্ষমতা না বাড়ালে পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। সামনে কৃষি মৌসুম ঘনিয়ে আসায় ডিজেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার অধিকাংশই আমদানি করতে হয়।