সরকারি নথি অনুযায়ী, রাউজক এর অনুমোদিত লে–আউটে প্রকল্পের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩১৪ দশমিক ৮৯ একর। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও জিআইএস ডাটাবেস বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাস্তবে এই এলাকা প্রায় ৩ হাজার ৪০৪ দশমিক ৪০ একর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে প্রায় ৭৪ দশমিক ১৮ একর জমি সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ৫ মে তারিখের সারসংক্ষেপে বলা হয়, এই জমির মধ্যে প্রায় ২২২ বিঘা সরাসরি সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ে একটি আপডেটেড ম্যাপ ও জিআইএস ডাটাবেস জমা দেয়। ওই নথি অনুযায়ী, ভাটারা, বাড্ডা, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত একাধিক মৌজা—যেমন জোয়ারসাহারা, বড় বেরাইদ, ছোট বেরাইদ, কাঠালদিয়া, ডুমনি ও পাতিরা এলাকায়—মোট জমির পরিমাণ ১০ হাজার ২১৩ বিঘার বেশি দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি হিসাব বলছে, এর একটি অংশের মালিকানা ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসামঞ্জস্য রয়েছে।
প্রকল্পটি বর্তমানে ২০টি ব্লকে বিভক্ত এবং এখানে ৩৫ হাজারের বেশি প্লট রয়েছে। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে এটি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। এখানে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যম স্কুল এবং শিশু শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
এলাকাটি আগে ভাটারা, বেরাইদ ও ডুমনি ইউনিয়নের আওতায় ছিল। পরবর্তীতে এসব মৌজার বড় অংশ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন–এর সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখন পুরো এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো, সেবা ব্যবস্থাপনা এবং কর আদায় বিষয়ক কার্যক্রম ডিএনসিসির অধীনে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বসুন্ধরা এলাকার ভেতরে থাকা সংরক্ষিত জমি ও নাগরিক সুবিধা–সংক্রান্ত অবকাঠামো দ্রুত সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের সব দালিলিক নথি পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আগামী ১১ মে মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জমি ব্যবস্থাপনা, সার্ভিস চার্জ নীতি এবং খাস জমি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সরকারি তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখল ও খাস জমি উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং এসব কার্যক্রম পুরোপুরি আইনগত কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।