পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নষ্ট হওয়া এবং পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির দায় মিলিয়ে এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ এসেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালে গ্যাস ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতির বড় অঙ্কের হিসাব উপস্থাপন করেছিল এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিও যুক্ত করার আবেদন ছিল। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন অনুসন্ধান কূপ খননের সময় দুটি বিস্ফোরণে টেংরাটিলা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে বিষয়টি দেশীয় আদালত পেরিয়ে ইকসিডে গেলে ২০২০ সালে নাইকোকে দায়ী করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আসে।
বিস্ফোরণের পর পেট্রোবাংলা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে নাইকো তা অস্বীকার করে। এ নিয়ে দেশে মামলা, গ্যাস বিল আটকে দেওয়া, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ এবং চুক্তি বাতিলসহ দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। এক পর্যায়ে নাইকো ইকসিডে মামলা করলেও বিভিন্ন রায়ে বাংলাদেশের অবস্থানই জোরদার হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের অবশিষ্ট মজুদ দ্রুত উত্তোলন এখন জরুরি। সেখানে বিদ্যমান পাইপলাইন থাকায় গ্যাস তুললে দ্রুত সরবরাহে যুক্ত করা সম্ভব। নতুন গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় এটি কম সময় ও কম ব্যয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে।
১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত এ গ্যাসক্ষেত্রে একাধিক স্তরে গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল। দীর্ঘদিন উৎপাদনের পর কূপে পানি আসায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে ক্ষেত্রটি নাইকোর হাতে গেলে অনুসন্ধান কালে বিস্ফোরণ ঘটে। ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম অংশের মধ্যে পশ্চিমাংশে ক্ষতি হলেও অন্য স্তরগুলো অক্ষত রয়েছে। সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ টিসিএফ হিসেবে ধরা হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত আছে। রায়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে আসায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। একসময় দৈনিক ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও তা নেমে এসেছে প্রায় ১৭৫০ মিলিয়নে। ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, তবে বিদ্যমান টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কাজ পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে কানাডাতেও নাইকো সমালোচনার মুখে পড়ে এবং জরিমানা গুনতে হয়।