সরকারি হিসাবে, বছরে ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় মাসেই প্রায় ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
সরকারি মূল্যায়নের তথ্য বলছে, গত ছয় মাসে বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি চারা লাগানো হয়েছে। এ কর্মসূচিতে বন বিভাগসহ ১১টি সরকারি সংস্থা সরাসরি কাজ করছে।
চারা রোপণে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বন অধিদপ্তর। সংস্থাটির উদ্যোগে ১ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২টি চারা রোপণ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারা সারাদেশে ৭১ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫টি চারা লাগিয়েছে।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং গৃহায়ন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগেও বাকি চারাগুলো রোপণ করা হয়েছে।
সরকারের পাঁচ বছরের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু বেশি সংখ্যায় গাছ লাগানো নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বনভূমি ও সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অঞ্চলভেদে গাছের প্রজাতি নির্বাচনেও আলাদা কৌশল নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় গর্জন, চাপালিশ, সেগুন ও বাঁশের মতো প্রজাতি বেছে নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জোয়ার-ভাটার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কেওড়া, বাইন ও ঝাউসহ ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় প্রজাতির চারা লাগানো হচ্ছে।
হাওর, বিল ও অন্যান্য জলাভূমি এলাকায় হিজল, কদম ও করচের মতো জলসহিষ্ণু গাছ রোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সংস্থাগুলোর বাইরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলোকেও কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জানিয়েছেন, এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ গাছ রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে উপকূলীয় এলাকাকে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় পৃথক একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ২ কোটি ম্যানগ্রোভের চারা রোপণের একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি এসব বন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন শোষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সংস্থা, এনজিও এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।