মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণাসহ কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আত্মিক সম্পর্কও। জীবনের কঠিন সময়ে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন বলেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
গণতন্ত্রকে একটি সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে মানুষের চিন্তা ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এলেও পুরোনো চিন্তাধারা বজায় থাকলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের কল্যাণে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনেও উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত এক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভক্তি কখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনে না। মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সাংবাদিকরা সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের সঙ্গেই কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
দীর্ঘদিন পর একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সরকারের ভুল ও সীমাবদ্ধতা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের কল্যাণ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান তিনি।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি একসময় প্রেস ক্লাব পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় সাংবাদিক সমাজ গর্বিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। অন্যদিকে কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারা বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও চান তিনি।
প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে তিনি এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।