নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জোয়ার দেখা দিয়েছে। এর ফলে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া, নাজিরার টেক, পেশকার পাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে সমিতিপাড়া, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, কবিতা চত্বর ও শৈবাল পয়েন্টের বেশ কয়েকটি ঝাউগাছ উপড়ে গেছে।
সাগর উত্তাল থাকলেও শুক্রবারের ছুটিতে কক্সবাজারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছেন। ভারি বর্ষণ ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ পর্যটক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সময় কাটালেও বিকেলে অনেকেই সৈকতে ঘুরতে বের হন, যা ছিল রীতিমতো বিপজ্জনক।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত একটি লঘুচাপ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও পরবর্তীতে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে (২১.৩° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম থেকে ২৬৫ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ২৬৫ কিমি পশ্চিমে, মোংলা থেকে ১৩০ কিমি এবং পায়রা থেকে ১১০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। বিকেলের মধ্যে এটি পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিমি, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে।
এদিকে নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ আশপাশের দ্বীপ ও চরগুলোতে ১-৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।