সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেওয়া ওই আবেদনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এমপির গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় গাজী নজরুলের কথিত দুর্নীতি, জমি দখল, বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
নিজের ওপর হামলার বিষয়ে আবেদনে ওবায়দুর রহমান উল্লেখ করেন, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর ডি-২ ফ্ল্যাটে তিনি ছিলেন। তার অভিযোগ, ওই সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে তিন ব্যক্তি হামলা চালান। হামলাকারী হিসেবে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত পুলিশের সাবেক এসআই আমিন, মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন।
ওবায়দুর রহমানের দাবি, তার ওপর হামলার শব্দ শুনে পাশের কক্ষ থেকে মা ও ছোট বোন ছুটে আসেন। পরে অনেক চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে তাদের সহায়তায় একটি সিএনজিতে করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে সেখানে তাকে ভর্তি করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হামলার পর থেকে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এ হামলার নেপথ্যে প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন তিনি।
আবেদনে ওবায়দুর রহমান আরও দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও পিএস হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। তার ভাষ্য, একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের সঙ্গে এমপি নজরুলের কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে এবং এসবের প্রমাণও সংরক্ষিত আছে।
নিজের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুর রহমান হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।