বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর ধরা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প হওয়ায় এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলাদা কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে দুই দেশের যৌথ কমিশন কাজ করছে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খালে পানিপ্রবাহ বজায় থাকবে এবং সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্পটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ্যানী আরও বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প এবং নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ। আগামী বাজেটের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশক থেকেই পদ্মা অববাহিকার নদী, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি উঠে আসে। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে নানা পরিবেশগত ও কৃষিভিত্তিক সংকট তৈরি হয়েছে।