মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার উন্নয়ন, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদগুলোকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা দরকার।
তবে ২০ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে এনসিপি। দলটির দাবি, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক মতের মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক শক্তি এবং রাজনীতির বাইরে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে।
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, এভাবে একটি পক্ষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকায় জেলা পরিষদগুলোর নিরপেক্ষতা ও সব শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থাও কমতে পারে।
বিবৃতিতে দলটি বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় আলাদা। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে অনেক যোগ্য, সৎ ও জনসম্পৃক্ত মানুষ আছেন, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পরিচয়ে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন।
এনসিপি বলছে, জেলা পরিষদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক আনুগত্যই যদি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এসব মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থেকে দূরে থাকবে।
দলটির দাবি, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি স্থানীয় মানুষের প্রতিষ্ঠান। তাই চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এনসিপি আরও বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সংবেদনশীল এলাকায় জেলা পরিষদকে অতিরিক্ত দলীয় রাজনীতির মধ্যে নিয়ে গেলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিবৃতিতে জেলা পরিষদগুলোর দীর্ঘদিনের অনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটি জানায়, ১৯৮৯ সালে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন হওয়ার পর ওই বছর একবার নির্বাচন হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সরকার মনোনীত বা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মাধ্যমেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে।
এর ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষ নিজেদের ভোটে স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি।
‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান’-এর পরও অনির্বাচিত ও দলীয়ভাবে প্রভাবিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রাখা উচিত নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপির মতে, দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর ব্যবস্থাপনাকেও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
দলটি বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে, তবে এটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের বিকল্প নয়। তাই খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সরাসরি ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে দলীয় আনুগত্যের বদলে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, স্থানীয় মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে এনসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। এ অঞ্চলের সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। তাই জেলা পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়সংগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে দলীয় প্রভাবের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।