অক্টোবরের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাপানের প্রার্থীকে পরাজিত করে এ পদে নির্বাচিত হন তালহা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ইউনেস্কোর শীর্ষ ফোরামে নতুন এক যুগে প্রবেশ করল।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত তালহা বলেন, “আজকের বিশ্বে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিভক্তির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অনেক সময় মানবজাতির জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।” তিনি বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালহা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোটেকনোলজি ও নিউরোসায়েন্সের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্ব সমাজের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাঁর মতে, ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পরও এর আদর্শ ও লক্ষ্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—তবে ২০২৫ সালের বিশ্ব আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি।
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” পূর্বতন সভাপতি রাষ্ট্রদূত সিমোনাও খন্দকার তালহাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতাকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন রাষ্ট্রদূত তালহা। উপস্থিত ছিলেন উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিয়োয়েভ, সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেক্সান্দার ভুসিক ও স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পিটার পেল্লেগ্রিনি।
এ বছরের সাধারণ অধিবেশনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো এটি ইউনেস্কো সচিবালয়ের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক গুরুত্ব যোগ করেছে।