বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. আকতারুল ইসলাম।
তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি, সরকারি কেনাকাটা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে ওই কমিটি কাজ করছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের নানা দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
দুদকের পিআরও মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর বিষয়ও ছিল।
অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং পদায়নের আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের স্থানে পদায়ন করানোর জন্য মোট ২ কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানী দলের অভিযোগ অনুযায়ী, যুব উন্নয়নের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই, ঢাকা) ও আলী হোসেন (নরসিংদী) গংদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে ওঠে।
এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়নের বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি ও কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানী দলের অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা এবং দুর্নীতির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি উপায়ে বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও দুদকে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম ও এর গঠনপ্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিস্তার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও ওঠে।
দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়েছে।