পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সব জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিটপ্রধানদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া গেলে তা নিজেরা স্পর্শ বা সরানোর চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরে একা চলাফেরা না করা এবং টহল ও অভিযানে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন জেলায় পুলিশ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেছেন। তালিকাভুক্ত অপরাধী ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি বিদেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমন্বয় বা উসকানি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিটকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট ও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতা, উসকানিমূলক কর্মসূচি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে। যদিও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও অতীতের অভিজ্ঞতা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সরকারি স্থাপনা, কূটনৈতিক এলাকা, মেট্রোরেল স্টেশন ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেস এবং সন্দেহভাজন স্থানে বিশেষ অভিযানও চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে সব ইউনিট কাজ করছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি মতিঝিল, ফার্মগেট, মিরপুর-১০ এবং সাভারের আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের গাড়িতে হামলার বিষয়ে জারি করা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়; বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার অংশ।
এদিকে, সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।