২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে দায়িত্ব নেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তবে দায়িত্ব পালনের প্রায় দেড় বছরে তাঁর কর্মকাণ্ড ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়োগ-বাণিজ্য ও আলোচিত আসামিদের অব্যাহতির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থের লেনদেন ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাঁর স্ত্রী, প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর কন্যা শীলা আহমেদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপদেষ্টার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে আর্থিক লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতেন শীলা। পিপি নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মামলা নিষ্পত্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার পর অর্থ কোথায় জমা হবে এবং কীভাবে বিদেশে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতেন তিনি। দেশীয় লেনদেনের বদলে দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের প্রবণতাই ছিল বেশি—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
একাধিক সূত্রের দাবি, বড় অঙ্কের লেনদেন নিশ্চিত না হলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই হতো না। একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, স্ত্রীর ‘ক্লিয়ারেন্স’ ছাড়া আর্থিকভাবে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে অগ্রগতি হতো না।
বিদায়ের প্রাক্কালে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালের আইনি সুবিধা পাওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মামলা থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়ার সঙ্গে কয়েকশ কোটি টাকার বিদেশি লেনদেন জড়িত ছিল এবং তা দুবাইভিত্তিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় শীলা আহমেদের সক্রিয় তদারকির কথাও উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধান বলছে, আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। গত ১৮ মাসে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সুইজারল্যান্ড, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্যও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অভিযোগ উঠা রাষ্ট্রীয় আস্থার জন্য বড় ধাক্কা। তারা বলছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।