রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে চলতি মাসের শেষের দিকে ইউপি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে দেশের সব ইউনিয়নে একই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারচুপি ঠেকাতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যাও বহুগুণ বাড়ানো হবে। এছাড়া যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। এ কাজ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয় বলে যে ধারণা রয়েছে, তা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ভুল বোঝাবুঝি ও সম্ভাব্য অনিয়ম এড়াতে ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি, যাতে সবাই নিয়ম মেনে এই সুযোগ নিতে পারেন।
ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তাঁর মতে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে পরীক্ষার আগে অথবা পরে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের দাবির বিষয়েও কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট।
ইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে। এতে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।