গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক খোকন পারভেজকে আটক করে পুলিশ। রূপগঞ্জ থানার এসআই আবু সাদেক, এসআই জয় মন্ডল ও এএসআই শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য অভিযানে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের পর রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় খোকন পারভেজের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁকে আটকের সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। আটকের পর তিনি রূপগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। এরপর তাঁকে থানায় না নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে যায় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শী রেনু আক্তার ও রুহুল আমিনের ভাষ্য, পুলিশ খোকন পারভেজকে তাঁর বাড়ি থেকেই আটক করেছিল। পরে ওসির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই আবু সাদেক। তিনি বলেন, খোকন পারভেজ বাসায় ছিলেন না, ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, তাকে বাসায় আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
খোকন পারভেজকে ঘিরে আরও একটি অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে মাসে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে থানার ওসির সঙ্গে সমঝোতা করে এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করছেন খোকন পারভেজ।
ওই স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, ‘নাইম ক্যাবলস’ নামে ডিশ ও নেট ব্যবসা চালু রাখতে আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাসোহারা হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়া হতো। বর্তমানে থানায় লিয়াজোঁর মাধ্যমে ব্যবসাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন কিংবা থানার সঙ্গে সমঝোতার দাবির পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ‘গ’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, খোকন পারভেজকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি এই মাত্রই শুনেছেন। কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা বা এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের পর কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ডেইলি সকালবেলা।