এর আগে একটি ভিডিওতে সিফাত আব্দুল্লাহ দাবি করেছিলেন, জুলাই ও আগস্ট দুই মাসে তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। পরে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল দিয়ে একটি পরিবারকে জিম্মি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষর করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবা মো. সেকান্দার আলীর গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দোতলা বাড়িটিতে তিনটি আবাসিক মিটার সংযোগ রয়েছে।
প্রথম মিটার S000433*7-এ মে মাসে ৪৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল আসে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটের জন্য ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের জন্য ৫১৩ টাকা বিল করা হয়। চার মাসে এই মিটারে ৩২০ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে মোট বিল দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটার S000218*5-এ মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল ছিল ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল আসে। এই মিটারে চার মাসে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
তৃতীয় মিটার S000424*7-এ মে মাসে ১২৫ ইউনিট ব্যবহারে ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের জন্য ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল করা হয়। চার মাসে ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে এই মিটারের মোট বিল ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু একটি মিটারের হিসাব নয়, বাড়িটিতে থাকা তিনটি মিটারের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিলের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।