ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুদকের করা ছয়টি মামলায় এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব। রবিবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজিপ্রেস) থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
দুদক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই তারিখের মধ্যে অভিযুক্তরা আদালতে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হবে। গেজেটে উল্লেখ রয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং তারা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নেই। তাই ১৯৫৮ সালের ক্রিমিনাল 'ল' এমেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ৬(১৩) ধারা অনুযায়ী অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
গেজেটে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। এছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদারসহ রাজউকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাহউদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ রয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ধানমন্ডিতে পরিবারসহ বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি আইন, বিধি ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং কোনো আইনসম্মত পারিশ্রমিক না দিয়েই ২০৩ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর প্লট রেজিস্ট্রির মাধ্যমে গ্রহণ করেন। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেন, যা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতির শামিল।
২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এই মামলাগুলো দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ শেখ হাসিনা, পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এছাড়া পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, রেহানার সন্তান টিউলিপ, আজমিনা ও রাদওয়ানসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে ১৩ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৫৩ জন হলেও অনেকে একাধিক মামলায় থাকায় মোট আসামি ২২ জন।