বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সনদের গুরুত্বপূর্ণ অংশে চাপ প্রয়োগ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর তারা নতুন সংবিধান বা পূর্ণ পুনর্লিখনের দাবি তুলেছিলেন। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে পরে একটি মধ্যপন্থায় এসে ঐকমত্য কমিশন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি সেই অবস্থান থেকে সরে যায়, তাহলে তারাও আগের দাবিতে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন।
তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় এনসিপি সরাসরি এতে অংশ নেয়নি; পরে তারা নিজেদের মতামত জানালেও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করার মাধ্যমে সনদের মূল চেতনা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সনদকে ‘প্রতারণার দলিল’-এ পরিণত করেছে।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কড়া সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির ভূমিকার কারণে দেশের আর্থিক খাতে বড় ক্ষতি হয়েছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন ছিল। জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এবং বিকল্প হিসেবে সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকায় দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তারা সরকারে অংশ নিয়েছিলেন।