মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রসববেদনা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাওয়ার কথা বলেন। একই পোস্টে নিজের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসব করানোর কথা উল্লেখ করে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর রাতে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা উঠলে ডা. কেয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরামর্শে ভোর ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসক সেখানে আসেন বেলা ১১টার পর।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর আল্ট্রাসাউন্ডের পর নাজমার গর্ভের শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। তবে ডা. কেয়া স্বাভাবিক প্রসবের নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠান বলে পরিবারের দাবি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চলে। একপর্যায়ে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত ও ক্ষত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি চিকিৎসক নাহিদা সুলতানাকে ডেকে আনা হয়। তিনি দ্রুত আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নিয়ে সিজার করার পরামর্শ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, এরপরও স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চলতে থাকে। একপর্যায়ে নবজাতক জরায়ুমুখে আটকে মারা যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাজমার অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়। পরে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
নাজমার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় তার সন্তান মারা গেছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বিতর্কিত পোস্টের বিষয়ে ডা. কেয়া বলেন, তিনি যা লিখেছেন তা তার ফেসবুকেই রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।