রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত বিলে এসআরবিকে ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের সুযোগ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে এমন অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাও উদ্বেগের কারণ।
এ ছাড়া র্যাবের বর্তমান জনবলকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা এবং প্রেষণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এসআরবিতে যুক্ত করার সুযোগ বহাল রাখার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি পদক্ষেপ এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ ছিল। তবে শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করলেই প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হয় না।
তিনি বলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এবং এসবের প্রমাণ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে নতুন বাহিনীর কাঠামো, সদস্য নির্বাচন, ক্ষমতার সীমা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্যথায় র্যাবের জায়গায় এসআরবি নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সাংগঠনিক সংস্কৃতির আরেকটি বাহিনী তৈরি হলে সেটি কার্যত পুরোনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানো ছাড়া আর কিছু হবে না।
কেবল একটি ‘কসমেটিক মেকওভার’ দিয়ে দেশের নাগরিক কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পুলিশ বাহিনীর বাইরের সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে এসআরবিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা উচিত।
তার মতে, এ ধরনের বিধান বহাল থাকলে অভ্যন্তরীণ পুলিশিং কার্যক্রমে সামরিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যাবে, যা প্রকারান্তরে প্রতিপক্ষকে হত্যাসহ নির্মূল করার মানসিকতা তৈরি করতে পারে।
র্যাবের সদস্যদের নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া ঢালাওভাবে র্যাবের জনবল এসআরবিতে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভেটিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন বা গুমের মতো অপরাধে অভিযুক্ত কিংবা জড়িত কোনো সদস্য যেন নতুন বাহিনীতে জায়গা না পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
টিআইবির মতে, র্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের মাধ্যমে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এসআরবির ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি নিশ্চিত করা, সদস্যদের স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা এবং বিচারিক সুরক্ষা ও কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা না থাকলে র্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
উল্লেখ্য, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সুপারিশ সংবলিত একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি তাদের সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে।