প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি ইভাঙ্কাকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাছে ফ্লোরিডায় অবস্থিত ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জারেড কুশনারের বাড়ির নকশা এবং আশপাশের এলাকার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা করা হয়। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর আল-সাদি প্রকাশ্যে ইভাঙ্কাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন, যেখানে ট্রাম্প পরিবারের বাসস্থানের অবস্থান চিহ্নিত ছিল। পোস্টটির সঙ্গে আরবি ভাষায় হুমকিমূলক বার্তাও যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
গত ১৫ মে তুরস্কে আল-সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আল-সাদি একই সঙ্গে কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া লন্ডন, আমস্টারডাম, টরন্টো, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ভ্রমণের আড়াল হিসেবে তিনি একটি ধর্মীয় ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে তাকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে একাকী আটক রাখা হয়েছে।