ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নর্দার্ন মালুকু সাগর এলাকা। টারনেট উপকূলের কাছে ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দ্বীপজুড়ে। ঝুঁকি বিবেচনায় বেশ কয়েকটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি বৃহস্পতিবার ঘটেছে। প্রথমে এর মাত্রা ৭.৮ ধরা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭.৪ জানানো হয়। ভূগর্ভের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এই কম্পনের পরপরই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছেন ভবন থেকে লাফ দেওয়ার সময়। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া স্থাপনার ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্পন হঠাৎ শুরু হয়ে দ্রুত তীব্র হয়। টারনেটের এক বাসিন্দা জানান, এক মিনিটের বেশি সময় ধরে পুরো এলাকা কাঁপছিল, এরপর সবাই আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। অনেকে প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে দ্রুত ঘর ছাড়তে বাধ্য হন।
আরেক বাসিন্দা জানান, প্রথমে হালকা কম্পন অনুভূত হলেও পরে তা শক্তিশালী হয়ে ওঠে, ফলে ঘরবাড়ি কাঁপতে শুরু করে এবং সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
মানাদো শহরে এক চালক জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি গাড়ি থামিয়ে দেন যাতে চারপাশের গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে ক্ষতি না করে। একই শহরের এক সাংবাদিক জানান, কম্পনে ঘুম ভেঙে গেলেও বড় ধরনের ধ্বংস তিনি লক্ষ্য করেননি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের কাছাকাছি বিস্তৃত এলাকায় ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কোথাও কোথাও ০.৩ থেকে ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের উপকূলে খুবই সামান্য উচ্চতার ঢেউ পৌঁছাতে পারে, যা বড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করবে না।
প্রশান্ত মহাসাগরের ভূ-কম্পনপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় এমন ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে ঘন ঘন ঘটে থাকে।