শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে কেউ তার অবস্থানের বাইরে যায়নি। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সৌদি আরবের সামনে এখনই উপযুক্ত সময় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। এর পরদিন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পারমাণবিক সুবিধা পেতে হলে সৌদি আরবকে আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থানে থাকার কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তি সইয়ের আগে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাদা করে কথা বলেননি তিনি। তবে বিষয়টি আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল এবং ক্রিস রাইট ও সৌদি আরবও এটি জানত।
ট্রাম্পের এই শর্ত নিয়ে সৌদি আরব এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। অন্যদিকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে।
শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতাকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিল। বুধবার মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন প্রশাসন চুক্তিটিকে কয়েক দশকের বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।
চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। পরে ট্রাম্প অবশ্য স্পষ্ট করে বলেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
চুক্তিটি ৩০ বছর কার্যকর থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তির কারণে পারমাণবিক অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই। তার বক্তব্য, পুরো প্রকল্প মার্কিন ঠিকাদারদের তত্ত্বাবধানে থাকায় ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। মার্কিন পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউস প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।