পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনায় শুরুতেই ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক হিসেবে বিজেপি এগিয়ে থাকায় রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে ফল ঘোষণা হচ্ছে, একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনে দরকার ১৪৮ আসন। বিভিন্ন হিসাবে বিজেপি ১০০-এর বেশি আসনে লিডে, তৃণমূল কংগ্রেসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে টিকে আছে। কংগ্রেস ও বাম জোট সীমিত আসনে এগিয়ে। সকাল ৮টা থেকে ৭৭টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তায় গণনা শুরু হয়—প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, পরে ইভিএম ভোট। এপ্রিলের ২৩ ও ২৯ তারিখে দুই দফায় ভোট হয়, যেখানে প্রথম দফা ছিল বিজেপির শক্ত এলাকা, দ্বিতীয় দফা তৃণমূলের ঘাঁটি।
এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। দুই দফা মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী আগ্রহকে স্পষ্ট করে। শুরুতে গ্রামীণ এলাকায় তৃণমূল কিছুটা ভালো করলেও শহর ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিজেপির প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে—ফলে লড়াইটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও ভোট গণনা চলছে। এসব রাজ্যের ফলও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসামে বিজেপির অবস্থান, আর কেরালা ও তামিলনাড়ুতে আঞ্চলিক দলগুলোর লড়াই—সব মিলিয়ে সারাদেশেই নজর এখন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।
ইতিহাস বলছে, পশ্চিমবঙ্গে কখনও সরকার গঠন করতে পারেনি বিজেপি। স্বাধীনতার পর কংগ্রেস, এরপর ৩৪ বছর বামফ্রন্ট এবং ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায়। তবে ২০১৬ সালে সীমিত সাফল্য, ২০১৯ সালের লোকসভায় ১৮টি আসনে জয় এবং ২০২১ সালে ৭৭টি আসন পাওয়ার পর বিজেপি এখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই এবারের এই এগিয়ে থাকা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।